বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র: তানিজা মাহভিন আনেরা

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বারিধারা শাখা সবসময় শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাফল্যে গর্বিত। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের শিক্ষার্থী তানিজা মাহভিন আনেরা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন এক সাফল্যের গল্প লিখেছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ সমগ্র জাতির জন্য এক গৌরবের বিষয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ

কম্বোডিয়ার রাজধানী ফনম পেন-এ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় ALOHA International Children’s Brain Development Competition 2025। এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৪০টি দেশের ৫০ জন প্রতিভাবান শিশু অংশ নেয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা এই ক্ষুদে মেধাবীরা যখন একত্রিত হলো, তখন সেখানে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেয় আমাদের শিক্ষার্থী তানিজা মাহভিন আনেরা।

এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং ছিল মেধা, মনন ও একাগ্রতার এক বৈশ্বিক প্রদর্শনী। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিশু তাদের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নিজ নিজ দেশকে গর্বিত করার চেষ্টা করেছে।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

এই কঠিন প্রতিযোগিতায় অসামান্য দক্ষতা প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তানিজা মাহভিন আনেরা। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে তার বিজয় কেবল একটি মেডেল বা শিরোপা নয়, বরং বাংলাদেশের সুনাম ও গৌরব বৃদ্ধির এক অনন্য উদাহরণ।

মাসের পর মাস অনুশীলন, অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিষ্ঠার ফলস্বরূপ আজ সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তার এ সাফল্যে আনন্দিত কেবল তার পরিবার নয়, বরং আনন্দিত পুরো জাতি।

পরিবারের অবদান

তানিজার সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের অবিচল সমর্থন ও দিকনির্দেশনা।

পিতার নাম: ফারুক আহাম্মদ
এসোসিয়েট প্রফেসর, বিসিএস এডুকেশন ক্যাডার
হাজারীবাগ সরকারি কলেজ, ঢাকা

মাতার নাম: তানজিয়া সবরিন মিসু
ম্যানেজার ও হেড অফ রিক্রুটমেন্ট
আবুল খায়ের গ্রুপ

অভিভাবকদের শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরলস সহায়তা তানিজাকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। একজন শিক্ষক ও একজন কর্পোরেট পেশাজীবী হিসেবে তার বাবা-মা সন্তানের শিক্ষাজীবনে শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং সঠিক দিকনির্দেশনার যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়েছেন, সেটিই আজকের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের অন্যতম কারণ।

বিদ্যালয়ের গর্ব

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সবসময় শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিক প্রচেষ্টা, মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের সুযোগ করে দেওয়ার কারণেই আজ এমন একটি অর্জন সম্ভব হয়েছে। তানিজার সাফল্য প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।

অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক

তানিজার এই বিজয় কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে। যারা স্বপ্ন দেখে, যারা পরিশ্রমে বিশ্বাস করে, যারা নিজেদের মেধাকে কাজে লাগাতে চায়—তাদের জন্য তানিজার কীর্তি এক জীবন্ত প্রমাণ।